ইউকে শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪
হেডলাইন

সিলেটে বন্যা: সাড়ে ৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি

ইউকে বাংলা অনলাইন ডেস্ক :সিলেট জেলার পাঁচ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি কোনো কোনো স্থানে উন্নতি হলেও বেশির ভাগ স্থানে অপরিবর্তিত। পাহাড়ি ঢল হ্রাস পেয়েছে। তবে সিলেটের প্রধান নদী সুরমা ও কুশিয়ারাসহ বেশ কয়েকটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে গতকাল শুক্রবার তেমন বৃষ্টিপাত না হলেও উজানের পানি নিচের দিকে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি বিস্তৃত হচ্ছে। সিলেটে নগরীর মাছিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় নদীর পানি ঢুকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, সুরমা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নগরের কাজিরবাজারসহ যে সব ড্রেন সুরমায় পড়েছে তা দিয়ে পানি নিষ্কাশনের বদলে উলটো পানি ঢুকছে। এ জন্য এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে গোয়াইনঘাট উপজেলার কিছু কিছু সড়ক দৃশ্যমান হলেও ক্ষতচিহ্ন ভয়াবহ। ১৩টি ইউনয়নের সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্টসহ বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণ করছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার কমলগঞ্জে পাত্রখলা চা-বাগানে টিলা ধসে এক মহিলা শ্রমিক নিহত হন। সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান জানান, পানিবন্দি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে ও নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের খোলা ৪৫২টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন উঁচু ভবনে বানভাসি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসন সিলেটের সবকটি পর্যটনকেন্দ্র বৃহস্পতিবার বন্ধ ঘোষণা করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড গতকাল শুক্রবার বেলা ৩টায় জানায়, কানাইঘাটে সুরমা ৯৪ সেন্টিমিটার, অমলসিদে কুশিয়ারা ২০৩ সেন্টিমিটার, শেওলায় কুশিয়ায় ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

এদিকে ১২ উপজেলায় ৪ হাজার ৩২৬ জন আশ্রয় নিয়েছে। গোয়াইনঘাটে ২৬৩টি, জৈন্তাপুরে ১০০টি, কানাইঘাটে ২০০টি, কোম্পানীগঞ্জে ৭৫টি, জকিগঞ্জে ৬০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যাকবলিত সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের মানুষের দুর্গতির শেষ নেই। বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় সিলেট-তামাবিল সড়ক। জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলার।

হুমকিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এফসিডিআই বাধ: হুমকিতে পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সারি-গোয়াইনঘাট ফ্লাড ডেমেজে ইরিগেশন বাঁধ (এফসিডিআই)। এই বাঁধের সাতটি স্থানে পানি উপচে পড়ে ফসল ডুবিয়েছে। আগফাল, বিরাখাই গ্রামের বহু মাছের খামার ভেসে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস ঘটনাস্থল থেকে জানান, পানির তীব্র চাপে বাঁধের কাছে কয়েকটি স্থানে বিরাট গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বালির বস্তা দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। জৈন্তাপুর উপজেলার ২ নম্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম জানান, জৈন্তাপুরে পরিস্থিতি অপরিবর্তিত। অন্তত ৪০ হাজার মানুষ বন্যাকবলিত। লালাখাল, পিয়াইন নদী, বড় খাল দিয়ে শুক্রবার সকালেও পানি ঢুকেছে। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম জানান, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের প্রায় ৪২ হাজার ৯০০টি পরিবার পানিবন্দি। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ২ হাজার ৩৫৬ জন আশ্রয় নেয়।

নগরীতে জলাবদ্ধতা: সিলেট নগরীর মাছিমপুর, মেন্দিবাগ, আলমপুরে গতকালই বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। নগরীর কালিঘাট, শেখঘাট, কাজির বাজারসহ বাণিজ্যিক এলাকাসমূহ বন্যাকবলিত। শুক্রবার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মখলিসুর রহমান কামরান ১৫ নম্বর ওয়ার্ড ও সুবহানীঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন। নগরীর বিদ্যুত্, পানিসহ জরুরি সেবা চালু রাখতে আগেই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন :

সর্বশেষ সংবাদ

ukbanglaonline.com