ইউকে শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
হেডলাইন

গাজীপুরের পাঁচ এলাকায় বেপরোয়া অপরাধ, বাসিন্দারা আতঙ্কে

ইউকে বাংলা অনলাইন ডেস্ক :গাজীপুর মহানগরের পাঁচটি এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও হত্যার ঘটনা বেড়ে গেছে। টঙ্গী স্টেশন রোড, টঙ্গী উড়ালসড়ক, চান্দনা চৌরাস্তা, জয়দেবপুর ও কোনাবাড়ী—এই এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি অপরাধ ঘটছে বলে জানিয়েছে মহানগর পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় চলাচলে ভয়ভীতি কাজ করে। অনেকেই প্রয়োজন না হলে রাতে বাইরে বের হন না। ভোগড়া এলাকার বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এখন দিনের বেলায়ও একা চলতে ভয় লাগে।’

মহানগর পুলিশ কমিশনার নাজমুল করিম খান বলেন, “৫ আগস্টের পর গাজীপুরে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কর্মসংস্থান বন্ধ হলে অপরাধ বাড়ে। পাশাপাশি আগের সরকারের শক্তিশালী দল গাজীপুরকে অস্থিতিশীল করছে, যা নজরদারির চাপ বাড়াচ্ছে।”

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সাত মাসে মহানগরের আট থানায় ৪৩টি হত্যা মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সদর থানায় ১১টি, কোনাবাড়ীতে ৭টি, টঙ্গী পশ্চিমে ৬টি, টঙ্গী পূর্বে ৮টি, গাছায় ৫টি, কাশিমপুরে ৪টি, পুবাইলে ৪টি এবং বাসনে ৫টি হত্যা মামলা হয়েছে। ২০২৪ সালে মোট হত্যা মামলা হয়েছিল ৪৮টি।

সম্প্রতি কয়েকটি হত্যাকাণ্ড এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ১৬ মে টঙ্গী উড়ালসড়কে প্রাইভেটকার চালক রনজু খাঁ খুন হন, ১০ জুলাই রাতে টঙ্গীতে কলেজশিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমানকে হত্যা করা হয়, ১৭ মে ফ্লাইওভারে খুন হন মো. রনজু (৩২) এবং সর্বশেষ ৭ আগস্ট চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, আসাদুজ্জামান হত্যার পর নগরের জনাকীর্ণ এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, সাদা পোশাকে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে এবং মোটরসাইকেল তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) গাজীপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার শিশির বলেন, “অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে শ্রমিক বেকারত্ব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পুলিশের উদাসীনতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দায়ী।”

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন :

সর্বশেষ সংবাদ