ইউকে রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫
হেডলাইন

সরকার স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রেসসচিব

ইউকে বাংলা অনলাইন ডেস্ক :মত প্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, সরকার স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই মূল্যবোধ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে তিনি স্বীকার করেন, নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সাম্প্রতিক বিবৃতিতে যেসব উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এক ফেসবুক পোস্টে শফিকুল আলম বলেন, “ভুল তথ্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারের মুখেও সরকার ব্যতিক্রমী সংযম দেখিয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, সরকারের সমালোচনায় প্রকাশিত টক শো ও কলামগুলোতে মিথ্যা ও উসকানিমূলক মন্তব্য থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অতীতে বন্ধ হওয়া কিছু গণমাধ্যম পুনরায় চালুর পথ খুলে দেওয়া হয়েছে, যা বাকস্বাধীনতার প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের প্রমাণ।

সচিবালয় প্রবেশাধিকার নিয়ে ব্যাখ্যা:

সাংবাদিকদের সচিবালয়ে প্রবেশাধিকার প্রসঙ্গে শফিকুল বলেন, আগের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থাটি বাতিল করে প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য একটি অস্থায়ী পাস ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুর্নীতিগ্রস্ত পদ্ধতির পরিবর্তে একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি জানান, পূর্ববর্তী নীতিমালায় সাংবাদিকদের সরকারের পক্ষ নেওয়ার চাপ থাকলেও নতুন নীতিতে তা সংশোধন করা হয়েছে।

চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের বিষয়ে অবস্থান:

চাকরি হারানো সাংবাদিকদের প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, এসব ঘটনা সরকারের কোনো নির্দেশে হয়নি; বরং গণমাধ্যম মালিকদের করপোরেট সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে হয়েছে।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা:

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার একটি নতুন ‘সাংবাদিক সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের কথা ভাবছে বলে জানান প্রেসসচিব। তিনি বলেন, এটি হলে সাংবাদিকদের ওপর চাপ, হুমকি বা স্ব-সেন্সরশিপের প্রবণতা হ্রাস পাবে।

নোয়াবের উদ্দেশে প্রতিক্রিয়া:

নোয়াবের প্রতি খোলামেলা মনোভাব প্রকাশ করলেও শফিকুল আলম পরামর্শ দেন, তারা যেন আগে নিজেদের সদস্যদের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখে। তিনি বলেন, “মজুরি শোষণ, শ্রম অধিকার লঙ্ঘন, নিরাপত্তাহীন কর্মপরিবেশ—এসব অভিযোগে তাদেরও জবাবদিহি থাকা উচিত।”

শেষে তিনি বলেন, “মত প্রকাশের স্বাধীনতা আমাদের কাছে শুধুই স্লোগান নয়, এটি আমাদের নীতি।” তিনি যোগ করেন, তথ্যভিত্তিক সমালোচনা গ্রহণযোগ্য হলেও ত্রুটিপূর্ণ ব্যাখ্যার ভিত্তিতে করা অভিযোগ গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জগুলো থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন :

সর্বশেষ সংবাদ