ইউকে রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫
হেডলাইন

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৬১ ফিলিস্তিনি নিহত

ইউকে বাংলা অনলাইন ডেস্ক :ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় আরও অন্তত ৬১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন ত্রাণপ্রার্থী ছিলেন, যারা খাদ্য সহায়তা পেতে বিতরণকেন্দ্রে অপেক্ষা করছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) গাজার উত্তরাঞ্চলের শাতি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় চিকিৎসা সূত্র।

এদিকে গাজার দক্ষিণাঞ্চলে বিতর্কিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের কাছে বিমান হামলায় অন্তত দুই নারী নিহত এবং আরও ৩০ জন আহত হন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গত মে মাসের শেষ থেকে জিএইচএফ-এর কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ত্রাণ নিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৮৭৫ জন।

ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানায়, মঙ্গলবার ভোর থেকে তারা ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত অন্তত ১৮ জন এবং আহত আরও ডজনখানেককে উদ্ধার করেছে। অধিকাংশ হতাহতই গাজার উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দা। একইসঙ্গে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজার উত্তরের ১৬টি এলাকায় বাসিন্দাদের জোরপূর্বক স্থানত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে জাবালিয়াও, যেখানকার বাসিন্দারা ইতোমধ্যে পালিয়ে যেতে শুরু করেছেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, মানুষ গাধা ও গাড়িতে করে অজানা গন্তব্যের দিকে রওনা হয়েছেন। অনেকেই জানেন না তারা কোথায় যাবেন। জ্বালানির অভাবে চলাফেরাও কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি চরম বিশৃঙ্খল, আতঙ্কে আছেন সবাই।

এমন বাস্তবতায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ সতর্ক করে বলেছে, গাজায় শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সংস্থাটির প্রধান ফিলিপ লাজারিনি জানিয়েছেন, ২০২৪ সাল থেকে পরীক্ষা করা প্রতি ১০ শিশুর মধ্যে একজন অপুষ্টিতে ভুগছে। গাজায় অপুষ্টিকে ‘ইঞ্জিনিয়ারড এবং মানবসৃষ্ট সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ইউএনআরডব্লিউএ।

এছাড়া গাজা শহরের বাস্তুচ্যুতদের তাঁবুতে ইসরায়েলি হামলায় ছয়জন নিহত হওয়ার খবরও জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স।

এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মঙ্গলবার ব্রাসেলসে বৈঠক করেন। গাজায় মানবিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন তারা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস বৈঠকে ১০টি বিকল্প প্রস্তাব দেন, যার মধ্যে রয়েছে—ইইউ-ইসরায়েল সহযোগিতা চুক্তি স্থগিত, বাণিজ্য সীমিত, ইসরায়েলি মন্ত্রীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এবং ভিসামুক্ত ভ্রমণ বাতিল।

তবে, গাজার চলমান মানবিক বিপর্যয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষোভের মধ্যেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি ইইউ সদস্যদেশগুলো।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন :

সর্বশেষ সংবাদ