ইউকে শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪
হেডলাইন

সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে দেড় বছরে ঝরেছে ৩৯ প্রাণ

ইউকে বাংলা অনলাইন ডেস্ক :সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে মৃত্যুর ঘটনা বেড়েই চলেছে। প্রতিদিনই কোন না কোন স্থানে ঘটছে দুর্ঘটনা। মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, খ্যাতনামা শিল্পীসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ। কেউ নিহত আবার কেউ আহত হয়ে সারা জীবনের জন্য প্রতিবন্ধিত্ব বরণ করে পরিবারের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। অদক্ষ, অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক, লাইসেন্স ও ফিটনেস বিহীন গাড়ী, ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা, সিএনজি, লেগুনা এবং যত্রতত্র গাড়ী পার্কিং , বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন না মানাসহ সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে ৪৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনায় বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে ৪৩টি। দুর্ঘটনায় ভিকটিম যাত্রীদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি। বেশিরভাগ দুর্ঘটনা বেপরোয়া গতিতে নিয়ন্ত্রণ হারানো আর যানবাহন ওভারটেকের কারণে হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক ও আভ্যন্তরীণ সড়কে দুর্ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত সময়ের চেয়ে সড়কে দুর্ঘটনা বেড়েছে। আঞ্চলিক সড়কে যেমন হারে দুর্ঘটনা ঘটছে জেলার আভ্যন্তরীণ সড়কে সমান হারে হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ দুর্ঘটনায় সরকারি হিসেবে আসে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেট সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক ও আভ্যন্তরীণ সড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল করে থাকে।ফিটনেসবিহীন সিএনজি, লেগুনা, ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সার বেশিরভাগ চালক অদক্ষ, অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও লাইসেন্স বিহীন বলে জানান যাত্রীসাধারণ। ফলে ট্রাফিক আইন না মেনে সড়কে বেপরোয়া গতির প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায়। গতি নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে প্রায়শই ঘটছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ট্রাফিক ব্যবস্থাকে কার্যকর না করে অভিযানের নামে অনিয়ন্ত্রিত সড়ক পথের জন্য পুলিশের চাঁদাবাজী অনেকাংশে দায়ী বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক ব্যবস্থার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতনসহ অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও ফিটনেসবিহীন গাড়ী ও চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

গণমাধ্যমকর্মী দিলাল আহমদ বলেন, সুনামগঞ্জ সিলেট সড়কে আশঙ্কাজনক হারে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। এই সড়কে যে যানবাহন চলাচল করে থাকে তার বেশিরভাই ফিটনেসবিহীন। অদক্ষ চালকদের বেপরোয়া গতি দুর্ঘটনার জন্য অন্যতম দায়ী। সড়কে ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ করতে হবে। নতুবা দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সম্ভব নয়। আমরা দেখি ট্রাফিক বিভাগ সড়কে লোক দেখানো অভিযান করে থাকেন । তাদের কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ে না।

সিলেট সুনামগঞ্জ সড়কে অদক্ষ অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক ও ফিটনেস বিহীন গাড়ীর কারণেই দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে জানিয়ে নিরাপদ সড়ক চাই’-সংগঠনের সভাপতি মহিম তালুকদার বলেন, সুনামগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় যে দুর্ঘটনা ঘটছে-তার জন্য দায়ী অদক্ষ চালক। বেশিরভাই ট্রাফিক আইন মানে না। আমাদের সংগঠন সড়কের যাত্রা নিরাপদ করতে চালক ও যাত্রীদের সচেতন করে থাকি। এক্ষেত্রে আমরা ট্রাফিক বিভাগের সাহায্য নিয়ে থাকি।

অদক্ষ অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়াসহ ফিটনেস বিহীন গাড়ীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) রাজন কুমার দাশ বলেন, অবৈধ যানবাহন ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালকদের পাশাপাশি যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন :

সর্বশেষ সংবাদ

ukbanglaonline.com