ইউকে শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪
হেডলাইন

মৌলভীবাজারের ৭ উপজেলার একমাত্র নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী গীতা

ইউকে বাংলা অনলাইন ডেস্ক :মৌলভীবাজারের সাত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একমাত্র নারী প্রার্থী গীতা রানী কানু (৪৩)। তিনি কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। উপজেলার চা-বাগান কুরমাতে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। দারিদ্র্যসহ নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন পিছিয়ে থাকা চা জনগোষ্ঠীর এই নারী।

গীতা থাকেন কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের ইসলামপুর ইউনিয়নের ভারত সীমান্তবর্তী চা-বাগান কুরমাতে। বুধবার সকালে তাঁকে দেখা গেল কাকা সীতারাম কানু, কাকি শংকরী রায় কানুসহ আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতে। আলাপে তিনি জানালেন, ‘জনগণ চাঁদা তুলে আমাকে নির্বাচন করার জন্য জামানতের টাকা দিয়েছেন।’

গীতা বলেন, কমলগঞ্জে ২২টি চা-বাগান। এই চা-বাগানসহ চা জনগোষ্ঠীর নানা অধিকারের কথা তিনি অনেক দিন ধরে বলছেন। চা জনগোষ্ঠীর দাবিদাওয়া আদায়, তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা বলতে নানা পর্যায়ের সংগঠনে যুক্ত হয়েছেন। জনপ্রতিনিধি হওয়ার এই ইচ্ছার পেছনেও আছে হতদরিদ্র, পিছিয়ে থাকা মানুষগুলোর জীবনের উন্নয়ন চাওয়া।

উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার মতো সাহস অর্জন করতে অনেকটা বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয়েছে গীতা রানী কানুকে। বাড়ির কাছে ইসলামপুর পিএনপি হাইস্কুলে তিনি পড়ালেখা করেছেন। বাবার মুদিদোকান ছিল, পাশাপাশি ছিলেন চা-বাগানের শ্রমিক। মা ছিলেন গৃহিণী। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। স্কুল পর্যায় শেষে তিনি মুদিদোকানের ব্যবসায় যুক্ত হন। বলেন, ‘দোকানে অভাবী মানুষ আসেন। তাঁদের সাধ্যমতো সাহায্য করি। মানুষকে সাহায্য করতে আমি পছন্দ করি। ত্যাগেই আমার আনন্দ।’

মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থেকে গীতা রানী কানু ২০১৪ সালে কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন। জয়ী হতে পারেননি। পরিবারের লোকজন তাঁর পাশে থাকেননি। একপর্যায়ে কিছুটা অভিমান নিয়ে তিনি ২০১৬ সালে ভারতে চলে যান। তবে দুই মাস পর তিনি সেখানে থেকে ফিরে আসেন। মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদ বোধ করেন। এখন তিনি বাংলাদেশ চা-শ্রমিক নারী ফোরামের আহ্বায়ক, চা জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন পরিষদের সদস্যসচিব এবং চা-শ্রমিক মহা সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক।

এই প্রার্থীর কাকা সীতারাম কানু প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানুষ বেশ সাড়া দিচ্ছে।’ কাকি শংকরী রায় কানু বলেন, ‘প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াইছে, এতেই ভালো লাগছে। এখন সবকিছু মানুষের হাতে।’ প্রার্থী গীতার কথা, ‘সবাই ভেতরে–ভেতরে বলছেন, আমাকে ভোট দেবেন। বলছেন, বহুত তো ধনী-কোটিপতিরে দিলাম। এবার আমার গরিব একজন উঠুক (জিতুক)।’

প্রচার-প্রচারণা চালানোর বিষয়ে গীতা বলেন, তিনি সকাল সাত-আটটার দিকে বাড়ি থেকে বের হন। উপজেলার বিভিন্ন চা-বাগান, গ্রামগঞ্জে মানুষের কাছে যান। কখনো হেঁটে, কখনো সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চার-পাঁচজনের দল নিয়ে এখান থেকে ওখানে ছুটে বেড়ান। বিজয়ী হলে কী করবেন, মানুষের কানে সেই কথাগুলো পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এভাবে প্রচার-প্রচারণা শেষ করে বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত ১১টা-১২টা বেজে যায়। এভাবেই ঘোড়া প্রতীকে প্রচার চালিয়ে যান তিনি।

কমলগঞ্জ উপজেলায় এবার চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপর প্রার্থীরা হচ্ছেন বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য মো. রফিকুর রহমান এবং আওয়ামী লীগ নেতা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ। ইমতিয়াজ আহমেদ কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদের ছোট ভাই। কমলগঞ্জে মোট ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ৫৪৭ জন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন :

সর্বশেষ সংবাদ

ukbanglaonline.com