ইউকে বাংলা অনলাইন ডেস্ক :মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে এখনো ভেসে আসছে তীব্র বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ। এতে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে কক্সবাজারের টেকনাফের সীমান্তের বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যের জেলা শহর মংডুর দুই পাশের (উত্তর ও দক্ষিণ) কয়েকটি গ্রামে গতকাল শনিবার (২ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে আজ রোববার (৩ মার্চ) ভোর পাঁচটা পর্যন্ত থেমে থেমে গোলাগুলি ও মর্টার শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে নাফ নদীর এপারে কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সাবরাং, টেকনাফ পৌর শহর, হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নে কম্পন অনুভূত হয়। আতঙ্কে রাত কেটেছে গ্রামগুলোর অন্তত ১০ হাজার মানুষের।
সীমান্তের লোকজন বলছেন, তিন দিন গোলাগুলি, মর্টার শেল নিক্ষেপ বন্ধ থাকার পর গত বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা থেকে নতুন করে শুরু হয় গোলাগুলি ও মর্টার শেল নিক্ষেপ। তবে দিনের চেয়ে রাতে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ে অনেক। তখন আকাশপথে হামলার পাশাপাশি ছোঁড়া হয় মর্টার শেল। মর্টার শেলের বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে টেকনাফ সীমান্ত।
এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্যারাবন ও নাফ নদীতে নেমে স্থানীয় বাংলাদেশি লোকজন মাছ-কাঁকড়া আহরণ বন্ধ রয়েছে।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী বলেন, মংডুর রাচিডং-বুচিডং টাউনশিপেও সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির তুমুল সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। আরাকান আর্মি মংডু শহরকে তিন দিক থেকে ঘিরে হামলা চালাচ্ছে। রাখাইন রাজ্যের পশ্চিম দিকের নাফ নদী অংশের নিয়ন্ত্রণ এখনো সরকারি বাহিনীর হাতে আছে। টেকনাফ স্থলবন্দরে আমদানি পণ্য নিয়ে আসা মিয়ানমারে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, কয়েক দিন ধরে রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিথুয়েতেও (আকিয়াব) দুই পক্ষের লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির রাজধানী ইয়াঙ্গুনের সঙ্গে সিথুয়ের যাতায়াতের সড়কটির কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলেছে আরাকান আর্মি। সেখানকার পোন্নাগিউনে পুলিশের একটি ফাঁড়ি দখল করে নিয়েছে তারা। আরাকান আর্মি সিথুয়ে ও মংডু শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, গতকাল শনিবার সন্ধ্যা থেকে আজ রাত সাড়ে তিনটা পর্যন্ত মংডুর আশপাশের কয়েকটি গ্রামে ২০-২৫টি মর্টার শেলের বিস্ফোরণ ঘটে। তাতে টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া, চৌধুরীপাড়া, কুলালপাড়া, ডেইলপাড়াতে কম্পন দেখা দেয়। তবে, টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও সীমান্তে বিজিবির টহল বাড়ানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, টেকনাফের চারটি ইউনিয়ন হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ সদর ও সাবরাং এবং উখিয়ার পালংখালীর বিপরীতে নাফ নদীর ওপারে শত কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রাখাইন রাজ্য। উত্তর-দক্ষিণ লম্বা রাখাইন রাজ্যের মধ্যভাগে (টেকনাফ পৌর শহরের বিপরীতে) মংডু টাউনশিপের অবস্থান। মংডুর পশ্চিমে নাফ নদী, পেছনে আকাশছোঁয়া কালাদান পাহাড়। তিন দিন ধরে মংডু শহরের উত্তর দিকের কুমিরখালি, নাইচাডং, কোয়াচিদং, শিলখালী, বলিবাজার, কেয়ারিপ্রাং, পেরাংপ্রু গ্রামে গোলাগুলি ও মর্টার শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। সেখানে সীমান্তচৌকি দখল এবং পুনরুদ্ধার নিয়ে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে জড়ায় দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি।








