ইউকে শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
হেডলাইন

আলোর রোশনাই নিভে গেল, শোকে স্তব্ধ বেইলি রোড

ইউকে বাংলা অনলাইন ডেস্ক :আলো ঝলমলে বেইলি রোড শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে। নীরবে কাঁদছে এর ইট কাঠ। কে বলবে মাত্র কয়েক ঘন্টা আগেও লিপ ইয়ারের দিনে আলোর রোশনাই ছড়িয়েছে রাজধানীর এই সড়কটি। এক নিমিষেই আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গেল বেইলি রোডের আলো ঝলমলে সাত তলা ভবনটি। আগুনের পোড়া গন্ধ এবং মৃত্যুর খবরে স্তব্ধ বেইলি রোডের বাসিন্দারা। মুহুর্তেই এতো মৃত্যু আর কখনও দেখেনি এলাকার বাসিন্দারা। শোকে মুহ্যমান এলাকাবাসী।

লিপ ইয়ারের দিন অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির ২৯ তারিখ থাকায় অনেকেই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সপ্তাহের পরিবার-প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে জড়ো হয়েছিলেন রেস্টুরেন্ট ও জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের কাপড়ের শো-রুম ভরা ভবনটিতে।

আগুন লাগার আগের দৃশ্য প্রসঙ্গে বেইলি রোড এলাকার বাসিন্দা আতিক বলেন, আগুন লাগার মিনিট পাঁচেক আগেও ভবনটির নিচে মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। দৌড়ে এসে দেখি কেউ দোতালার কাচ ভেঙে মই বেয়ে নামছে, কেউ আবার তিনতলা থেকে লাফ দিচ্ছে। এমন বিভীষিকাময় দৃশ্য আগে কোনোদিন দেখিনি।

সাত তলা ভবনটিতে নিচ তলা থেকে শুরু করে ছোট বড় মিলিয়ে ডজনখানেক রেস্টুরেন্ট আছে বলে জানান বাসিন্দারা। ছোট অগ্নিকাণ্ড দিয়ে রাত সাড়ে নয়টায় আগুনের সূত্রপাত হলেও সাড়ে ১২টার মধ্যে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পুরো ভবনটি ভস্মীভূত হয়ে গেছে।

বেইলি রোডের নওরতন কলোনির বাসিন্দা সিয়াম নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, নয়টার দিকেই ভবনটির সামনে থেকে হেঁটে মনোয়ারা হাসপাতালের দিকে গিয়েছিলাম। হঠাৎ শুনি বেইলি রোডে আগুন লেগেছে। এসে দেখি দাউ দাউ করে আমাদের সবার পরিচিত বিল্ডিংটি জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।

বেইল রোডের এই ভবনটিতে পিৎজা ইন, স্ট্রিট ওভেন, খানাসসহ আরও রেস্টরেন্ট রয়েছে। এ ছাড়া ইলিয়েন, ক্লোজেস্ট ক্লাউডসহ জনপ্রিয় বিপণিবিতানও রয়েছে।

বেইলি রোডের আরেক বাসিন্দা সাদমান বলেন, নিমতলী বা চুড়িহাট্টার আগুনের দৃশ্য টিভিতে দেখেছি। আজ নিজেদের চোখে এমন ধ্বংসযজ্ঞ দেখলাম। এলাকাবাসীদের মধ্যে ভয়াবহ এক ট্রমা কাজ করছে। সবাই জেগে আছে। এখন পর্যন্ত কেউ ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৫০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পান তারা। প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ৯টা ৫৬ মিনিটে। পরে আগুনের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়লে আরও ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে পুলিশ, আনসার, র‌্যাব ও এনএসআই। ১৩টি ইউনিটের ২ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আগুনে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪ জনে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন ৪৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিতের পর রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে আরও একজন মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ও ঢামেকে ভর্তি আছেন আরও ২২ জন। তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন :

সর্বশেষ সংবাদ