ইউকে শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪
হেডলাইন

জলবায়ু পরিবর্তন ও সংকটাপন্ন বিশ্ব

ইউকে বাংলা অনলাইন ডেস্ক :বিশ্বব্যাপী মানবজাতির সামনে সবচেয়ে বড় সংকট এখন জলবায়ু পরিবর্তন। বৈশ্বিক উঞ্চায়নের কারণে
মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা ক্রমেই বাড়ছে। ক্রমেই বেশি করে ডুবছে উপকূলীয় নি¤œাঞ্চল।
বাড়ছে জলবায়ু উদ্বস্তুর সংখ্যা। এই অবস্থায় বৈশ্বিক উদ্যোগ আরো জোরদার করা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে বৈশ্বিক
উদ্যোগ যেমন কম, সেসবের বাস্তবায়ন আরো হতাশাজনক।
তবে যুদ্ধ মহামারি শুধু মানুষের জীবনকেই বিপন্ন করে না। অনেক কিছুই বদলে দেয়। সভ্যতার নিকট
ইতিহাসেই আমরা এমন দেখেছি। স্প্যানিশ ফ্লু পরবর্তী পালটে যাওয়া বিশ্ব, বিপন্ন মানুষের উঠে দাঁড়ানোর
ইতিহাস আমাদের জানা। গত শতাব্দীতে দুই দুই বিশ্বযুদ্ধ আমাদের গোটা পৃথিবীর মানচিত্র বদলে দিয়েছে।
সমাজ, পরিবেশ, রাজনীতি ও সংস্কৃতিতে পরিবর্তন এনেছে। ২০০১সালের ১১ সেপ্টেম্বরের নারকীয় ঘটনা
ঘটেছিল আমেরিকায়। এর জের ধরে দেশে দেশে যুদ্ধের দামামা বেজেছে। বদলে গেছে বহু দেশের সরকার।
মানুষ মরেছে অগনিত।
আমাদের চলমান সময়ে কোভিড-১৯ মহামারি এমন করে বদলে দিয়েছে পরিবেশ ও জলবায়ু এবং মানুষের
জীবন। বদলে গেছে কর্মপদ্ধতি। মানুষের আচরণ, বিশ্ব বাস্তবতার এ পরিবর্তন আমাদের চলমান ঘটনা বলেই
ঠিক অনুধাবন করতে পারছি না। একসময় ফিরে দেখার অবকাশ হবে, ইতিহাস এ পরিবর্তনের সময়কে কিভাবে
চিহ্নিত করবে আমরা জারি না।
বিশ্বের ৮০ লাখের বেশি শিশু এতিম হয়ে গেছে মহামারির কারণে। আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার
অভিভাবকহীন শিশুরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জরিপে দেখা গেছে, শুধু ভারতেই ৩৫ লাখ শিশু
তাদের মা-বাবা বা অভিভাবক হারিয়েছে মহামারির সময়। লন্ডন ইউনিভার্সিটি কলেজের অধ্যাপক লোরেইন
শেইর বলেন, অভিভাবকহীন শিশুদের জন্য বিশ্বব্যাপী জলবায়ু ও পরিবেশ বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং অর্থনীতিতে
ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। তবে মা-বাবা ও অভিভাবকহীন অবস্থায় বেড়ে ওঠা শিশুরা মানসিক সুস্থতা নিয়ে কতটা
বেড়ে উঠবে, এ নিয়েও উদ্বেগ শুরু হয়েছে।
মহামারি শুধু গত চার বছরেই বিশ্বের সামাল দেয়া প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়। এর কারণে বদলে যাওয়া বিশ্বকে
কীভাবে সামাল দেয়া হবে বা বিশ্ব এ জলবায়ু পরিবর্তনকে কীভাবে ধারণ করবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার সমূহ
কারণ রয়েছে।
গত দুই সপ্তাহ ধরে বিশ্বব্যাপী বিরাজ করছে তীব্র দাবদাহ। অসহ্য গরমে মানুষসহ সব প্রাণীর নাভিশ্বাস
উঠেছে। তীব্র দাবদাহ, দাবানল আর খরায় পড়ছে পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশি অঞ্চল। আটলান্টিক থেকে প্রশান্ত
মহাসাগর হয়ে ভারত মহাসাগর অবধি আবহাওয়ার এ অস্বাভাবিক আচরণে বিপন্ন হয়ে পড়েছে প্রাণীজগত।
উইরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র তাপপ্রবাহ আর দাবানল। পুড়ছে ইউরোপ, ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে মরক্কোতেও
দাবানলের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।
তীব্র দাবদাহে গত দুই সপ্তাহে ইউরোপে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কেবল স্পেন ও পর্তুগালেই
মারাগেছে ১ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ।
ইউরোপ থেকে শুরু করে চীন, মধ্যপ্রাচ্য, ইরান, ভারত, পাকিস্তান ও মধ্য এশিয়াজুড়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা
৪০ থেকে ৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘নাসা’- ১৫ জুলাই
২২ বিভিন্ন দেশে তাপ প্রবাহের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেছে, স্পেনের সেভোল শহরে
তাপমাত্রা উঠেছে ৪২.২ ডিগ্রী সেলসিয়াসে; ইরানের আহভাজ শহরের তাপমাত্রা উঠেছে ৪৬.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসে
এবং চীনের সাংহাই শহরের তাপমাত্রা উঠেছে ৩৭.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াসে। আর মধ্যপ্রাচ্যেও বেশিরভাগ বড় শহরের
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে। তীব্র দাবদাহে ব্রিটেনে জাতীয় অবস্থা ঘোষণা
করা হয়েছিল। সেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে এমন পূর্বাভাসের পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া
হয়েছিল।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, গত কয়েক যুগের মধ্যে ভয়াবহ তাপদাহ ও খরায় পুড়ছে পূর্ব আফ্রিকা। এই
খরা গত বছর শুরু হয়ে এখনো চলছে। চার মৌসুম পরও সেখানে বৃষ্টির দেখা নেই। এ অঞ্চলের প্রায় ২ কোটি
মানুষ চরম অনাহারে রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছে, ভারত মহাসাগরের স্রোতের সঙ্গে সম্পর্কিত বসন্তকালীন বৃষ্টি এ
অঞ্চলে পৌঁছানোর আগেই সমুদ্রে ঝড়ে পড়েছে, যার কারণে বৃষ্টি হচ্ছে না ভূমি অঞ্চলে।
তাছাড়া পরিবেশ ও বায়ুদূষণে বিশ্বের সব শহরকে পেছনে ফেলে দূষণে শীর্ষে চলে এসেছে বাংলাদেশের
রাজধানী ঢাকা। ১৫ ডিসেম্বর ২০২১ দুপুরে এই প্রতিবেদন লেখার সময়েও দূষণে সবার চেয়ে এগিয়ে ছিল
শহরটি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এয়ার ভিজুয়ালের তথ্যানুসারে, গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ সকাল পৌনে ৯ টায় ঢাকার
বায়ুদূষনের মাত্রা ছিল ২৩৭ পিএম। একই সময় ২৩৬ পিএম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল মঙ্গোলিয়ার উলানবাটোর।
বায়ুদূষণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্টভিত্তিক এয়ার ভিজ্যুয়ালের তথ্যানুযায়ী ১৯৭ পিএম নিয়ে আফগানিস্তানের
কাবুল তৃতীয়, ১৯১ পিএম নিয়ে পাকিস্তানের লাহোর চতুর্থ, ১৮৩ পিএম নিয়ে চীনের চেংদু পঞ্চম এবং ১৮২
পিএম নিয়ে ষষ্ঠ ছিল ভারতের রাজধানী দিল্লী শহর।
২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার
বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধোয়া। সবাই জানে কীভাবে
এ শহরে দুষণ বাড়ছে, অথচ দূষণরোধে কঠোর বিধিমালা থেকেও তা অকার্যকর হয়ে আছে। বায়ুদূষণ রোধে
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয় গত বছর বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২২ প্রণয়ণ করে, এতে
জরিমানা অথবা উভয় দন্ডের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে কিন্তু এর কার্যকারিতা চোখে দেখবেন না। তবে মনে
রাখতে হবে, সব দোষ কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একার নয়। আপনি আমি যেকোনো
আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে কতটুকু সহযোগিতা করছি, সেটা খেয়াল করা খুব দরকার। তবে আইনের সাতপাঁচ
না বোঝা খেটে খাওয়া লোকটা সরল ভাষায় আফসোস করে, সে জন্য বলে ‘এসব আইন লইয়্যা আমরা কী
করব’?
গত (১লা জুলাই ২০২৩) কয়েকদিন হতে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা নেত্রকোনা, সিলেট ও
সুনামগঞ্জে বন্যা শুরু হয়েছে। শিগগিরই বন্যা শুরু হতে পারে তিস্তাবিধৌত নীলফামারী ও লালমনিরহাটে। দেশের
ভেতর এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়সহ পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ভারি থেকে অতিভারী বৃষ্টি আর পাহাড়ি
ঢলের কারণে এমনটি হয়েছে। তাছাড়া অনেকে মন্তব্য করেছেন, জলাবদ্ধতা, খাল ও নদী ভরাট, পানি নিষ্কাশন না
হওয়া এবং দখলের কারণে বায়ুদূষনের ফলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে ঈদের ছুটিতে ৩/৪ দিন
ঢাকাসহ প্রায় সারা দেশে বৃষ্টি হয়। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছিল জেলা শহর ও রাজধানীর মানুষ।
আবহাওয়া-জলবায়ু এবং বন্যা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে বর্তমানে বর্ষাকাল চলছে। এই
সময়ে বৃষ্টি এবং এ থেকে স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঘটঘটা স্বাভাবিক। তবে অল্প সময়ে সেভাবে বিভিন্ন জনপদ
বন্যাকবলিত হচ্ছে, সেটাই অস্বাভাবিক।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার গবেষণায় বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছিলেন যে, বাংলাদেশসহ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম শিকার হবে। চলতি বছরে দফায় দফায় তাপপ্রবাহ, কয়েক দিনের
ব্যবধানে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি, মৌসুমের শুরুতেই বন্যা এবং গত কয়েক বছরের বন্যা
ঘূর্ণীঝড় ও দুর্যোগ পরিস্থিতি সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের সতর্কতা বাস্তবতায় পরিনত হয়েছে।
২০২০ সালে জলবায়ুর প্রতিকুল অবস্থার কারণে বিশ্বকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। এ কারণে আর্থিক
ক্ষতি হয়েছে ১৫ হাজার কোটি ডলার। চ্যারিটি সংস্থা ক্রিস্টিয়ান এইড এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য দিয়েছে
(সাপ্তাহিক ঠিকানা ১লা জানুয়ারী ২০২১)। এ সময় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১ কোটি ৩৫
লাখ মানুষ বাস্তচ্যুত হয়েছে। এসব দূর্যোগের ৬টির শিকার এশিয়া। চীন ও ভারতের বন্যায় ৪ হাজার কোটি
ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বন্যায় বাংলাদেশের প্রায় এক চতুর্থাংশ পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আমফানে কয়েকদিনেই ১৩শ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে হ্যারিকেন ও
দাবানলে ৬ হাজার কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। অষ্ট্রেলিয়ার দাবানলে দেশটির ২০ ভাগ বন পুড়ে গেছে, মারা
গেছে হাজারো বন্যপ্রাণী। আফ্রিকায় শস্যক্ষেত ও সবজি বাগানে পঙ্গপালের আক্রমনের ফলে ৮৫০ কোটি
ডলারের ক্ষতি হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে আয়ারল্যান্ড, ব্রিটেন ও কয়েকটি ইউরোপের দেশে ঝড় সিয়ারা-র আঘাতের
ফলে ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছে। ক্ষতি হয়েছে ২৭০ কোটি ডলারের।
এ দিকে দ্য ল্যানসেটের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে
আর্থিক ক্ষতির মাত্র ৪ শতাংশ বীমাকৃত, যেখানে উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে এই হার ৬০ শতাংশ।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কতটা চরম হতে পারে চলতি বছর তা হাড়েহাড়ে টের পেয়েছে বিশ্বের অনেক
অঞ্চলের বাসিন্দা। পৃথিবীর কোথাও চলতি বছর তীব্র খরা চলছে আবার কোথায় চলছে ব্যাপক বন্যা। এসময়
আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার বড় বড় নদীর পানিপ্রবাহ কমতে শুরু করেছে। এর প্রভাবে একদিকে সুপেয়
পানির উৎস কমে যাচ্ছে, আরেক দিকে চাষাবাদের জন্য পর্যাপ্ত পানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশংকা করা
যাচ্ছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া বিশ্বের ছয়টি বড় নদীর ছবি বিেেশ্লষণ করে সিএনএন এ তথ্য দিয়েছে।
কলোরাডো নদী : যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে খরার তীব্রতা কমার তেমন লক্ষণ এখনও দেখা যায়নি। খরার
প্রভাবে কলোরাডো নদীর তীর শুকিয়ে যাচ্ছে এবং সরু হয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর দুটি জলাধারের মধ্যে
একটি হচ্ছে এই নদী। যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি অঙ্গরাজ্য ও প্রতিবেশী আফ্রিকার চার কোটি মানুষ এই নদীর ওপর
নির্ভরশীল।
ইয়াংজি নদী : এশিয়ার ইয়াংজি নদীর কিছু অঞ্চল শুকিয়ে যাচ্ছে এবং ওই সব এলাকায় নদীর তলদেশ
এখন দেখা যাচ্ছে। চীন নয় বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী খরা সতর্কতা ঘোষণা করেছে। ৮ কোটি
৪০ লাখ মানুষের প্রদেশ সিচুয়ানের জলবিদ্যুৎ বিদ্যুতের ৮০ শতাংশ উৎপাদন হয় এই নদী থেকে। নদীতে পানির
প্রবাহ কমে যাওয়ার সাথে সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে।
রাইন নদী : সুইস আল্পসে জন্ম নিয়ে রাইন নদী জার্মানি ও নেদারল্যান্ডের মধ্য দিয়ে উত্তর সাগরে গিয়ে
পড়েছে। এটি ইউরোপীয় জাহাজ যাতায়াতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেল। কিন্তু এই মুহূর্তে এতে জাহাজ
চলাচল মুশলি হয়ে পড়েছে।
পো নদী : এই নদীটি ইতালির পার্বত্য অঞ্চল থেকে বের হয়ে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে অ্যাড্রিয়াটিক
সাগরে গিয়ে পড়েছে। এটি আপ্লসের শীতকালীন তুষার এবং বসন্তে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে প্রতি বছর নদীর
চারপাশে বিধ্বংশী বন্যা হয়।
কিন্তু এখন, পো-নদীর চেহারা বদলে গেছে। উত্তর ইতালিতে শীতকাল শুষ্ক ছিল, তাই তুষার থেকে
সামান্য জল প্রবাহিত হয়েছে এবং বসন্ত ও গ্রীস্ম শুস্ক ছিল, এই অঞ্চলটিতে গত সাত দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র
খরা সইতে হচ্ছে। নদী এখন এতটাই শুকিয়ে গেছে যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের একটি বোমা সম্প্রতি এর
শুকনো তলদেশ থেকে পাওয়া গিয়েছে।
তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহর ঘেঁষা টেমস্ নদীর উৎস অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে
সর্বোচ্চ মাত্রায় শুকিয়ে গেছে। আশংকা করা হচ্ছে, খরার কবলে পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। দেশে শুষ্ক অবস্থা
দীর্ঘায়িত হচ্ছে। দেশটির কয়েকটি অংশে এ বছর উল্লেখযোগ্য পরিমান বৃষ্টিপাতই হয়নি। ইউরোপের অধিকাংশ
দেশের মতো ব্রিটেনেও গ্রীষ্মকালে প্রচন্ড গরম অনুভূত হচ্ছে এবার। তাছাড়া জলবায়ু উঞ্চ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে
মানুষ পরিবেশের সঙ্গে বাড়িঘর সময় উপযোগী করে তুলতে না পারলে তাপপ্রবাহে মৃত্যুর আশংকা স্বাভাবিকের
চেয়ে বেশী হবে বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের অন্যতম সমস্যা জনস্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ রক্ষা। একটি দেশের জনগনের
স্বাস্থ্য, গড় আয়ুসহ অনেক কিছুই নির্ভর করে সে দেশের জলবায়ু ও পরিবেশের ওপর। বর্তমানে দেশের
পরিবেশের যে অবস্থা তা শুধু চিন্তিত হওয়াই নয় বরং উদ্বেগেরও।
তবে ঢাকাসহ দেশের বেশির ভাগ নদ-নদী এখন দখলদারদের কবলে। ভয়ানক দূষণের শিকার প্রতিটি
নদী। দখল, দূষণসহ নানা কারণে দেশের নদ-নদী মরতে বসেছে। এ ছাড়া পাথর ও বালু উত্তোলনেও অনেক নদী
ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। সরকারী হিসাবে নদী দখলের সঙ্গে প্রায় ৫৪ হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্টান জড়িত। যদিও বাস্তবে এ
সংখ্যা লক্ষাধিক। দখলবাজরা শুধু নদীর দুই পাড় দখল করেই ক্ষান্ত হয়নি। তারা প্রবহমান নদীর পানিতে বাঁশকাঠের মাচা তুলে বানিয়েছে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। পানি প্রবাহে বাধা দিয়ে করছে মাছ চাষ। অন্যদিকে
নারায়নগঞ্জে নদী দূষণের তালিকায় রয়েছে ৭৪টি প্রতিষ্টান। দূষণকারীদের মধ্যে একক প্রতিষ্টান হিসেবে শীর্ষে
রয়েছে ঢাকা ওয়াসা। সরকারী হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন নদীতে ২২৫কোটি লিটার পয়:বর্জ্য ফেলছে ঢাকা
ওয়াসা। বাংলাদেশ ও বিশ্বের পরিবেশ রক্ষায় নিবেদিত আন্তর্জাতিক সংগঠন বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট নেটওয়ার্ক
(বেন)-এর পঁচিশ বছর পূর্তি উৎসব ও পরিবেশ মেলা-২০২৩ এর বৈশ্বিক সমন্বয়ক ড. মোঃ খালেকুজ্জামান,
আহবায়ক রানা ফেরদৌস চৌধুরী, যুগ্ম আহবায়ক ফারুক জামান ও সদস্য সচিব মিনহাজ আহমদ বলেছেন,
বাস্তবে ঢাকার চারপাশের চার নদী, সিলেট এর সুরমা ও কুশিয়ারা এবং নারায়নগঞ্জে নদী শীতলক্ষ্যাসহ দেশের
আধিকাংশ নদীর অবস্থা আরও করুণ। আর সারা দেশে দূষণের চিত্র ভয়ংকর। নেতারা আরো বলেন, বুড়িগঙ্গা
নদীসহ আরো অনেক নদীর দূষণ রোধে আদালতের নির্দেশ, একাধিকবার জরিমানা, নানা ধরণের শাস্তি দেয়া
হয়েছে নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা শিল্প কল-কারখানাগুলোকে। কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও নদী দূষণ বন্ধ করা যাচ্ছে না।
পরিবেশবাদী নেতারা বলেন জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষার জন্য সবাইকে কিছু না কিছু কাজ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে যেমন তৎপর থাকতে হবে, তেমনি জনগনকেও সচেতন করার আহবান জানান।
পরিবেশ সুরক্ষায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থানের যে ধারাবাহিক অবনতি ঘটছে, তা সাধারণ মানুষের জন্য
বিরাট উদ্বেগ ও আতংকের বিষয়। বিশ্ব ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকিতে
যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ, বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি। বাংলাদেশে প্রতিবছর যত মানুষের মৃত্যু হয়,
তার ২৮ শতাংশ মারা যায় পরিবেশ দূষণজনিত বিভিন্ন অসুখ-বিসুখে। কিন্তু সারা বিশ্বে এ ধরণের মৃত্যুর গড় মাত্র
১৬ শতাংশ। বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে এ দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিবেশ দূষণে ২০১৫সালে
দেশটির বিভিন্ন শহরে ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা এনভায়রনমেন্টাল
প্রটেকশন এজেন্সি-ইপিআই গত বছর বিশ্বের ১৮০টি দেশে সরকারের পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা নিয়ে যে
প্রতিবেদন প্রকাশ করে, তাতে দেখা যায়, ২০১০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৪০ ধাপ
পিছিয়ে ১৭৯তম অবস্থানে পৌঁছেছে। আর এই সুচকের ১৮০তম অবস্থানে রয়েছে আফ্রিকার যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশ
বুরুন্ডি। বনভূমি ধ্বংস, বায়ু, পানি ও প্লাস্টিক-পলিথিন দূষণের শীর্ষে থাকা ১০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশ
অন্যতম। তবে মানুষের অসচেতনতার কারণে বাড়িয়ে দিচ্ছে পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের হুমকি। তাই সবার
আগে প্রয়োজন সচেতনতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ।
বাংলাদেশ এনভায়রলমেন্ট নেটওয়ার্ক (বেন) এর উপদেষ্টা ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান চিকিৎসা বিজ্ঞানী
ডাক্তার জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, পরিবেশের দূষণ ক্রমে বাড়ছেই। আমাদের বেশ কিছু সূচকে উল্লেখযোগ্য
অগ্রগতি হলেও জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের উন্নয়ন কাংখিত পর্যায়ে নেই। অথচ জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ একে অপরের
সাথে সম্পর্কযুক্ত। পরিবেশ দূষিত হলে অবধারিতভাবে তার প্রভাব পড়ে জনস্বাস্থ্যে। নদী, খাল-বিল-জলাশয় ও
বন দখলের হোতাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাষ্ট্রকেই প্রধান ভূমিকা নিতে হবে। জনস্বাস্থ্য ও
পরিবেশ সুরক্ষা অনেক কিছুর ওপর নির্ভরশীল।
শাহজালাল (র.) ডিগ্রী কলেজ এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বাকবিশিস নেতা মোঃ শাখাওয়াৎ হোসেন আজাদ
বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরী। তাছাড়া অন্য একটি বিষয় নির্মম সত্য যে,
আমাদের শহরাঞ্চলের পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই বললেই চলে। ঢাকার বেশিরভাগ পয়ঃবর্জ্য বুড়িগঙ্গা বা তুরাগ
নদে গিয়ে পড়ে, যার ফলে পানি ও পরিবেশ দূষিত হয়ে নানাবিধ রোগব্যধি ছড়াচ্ছে।
বিশ্বের জনসংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। জনসংখ্যা যতই বাড়ছে বন কেটে, নদী, জলাশয় ভরাট করে বসতি
স্থাপনে আবাদি জমি বা ফসলি জমি কমে যাচ্ছে। আমাদের খাদ্যশস্য উৎপাদন কমে যাচ্ছে। পরিবেশের ওপর
বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বাসযোগ্য ধরনীর পরিবেশকে আমরা ধ্বংস করে ফেলছি, তাই পরিবেশের
ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য প্রতি বছর বৃক্ষরোপন অভিযান পরিচালনা করতে হবে, বনাঞ্চল সংরক্ষণ করতে
হবে। সুন্দর ও সুস্থ্য পরিবেশ মানব জীবনকে সুন্দর করে, তাই পরিবেশ যাতে সুন্দর থাকে, মানুষের বাস
উপযোগী হয়, সেদিকে আমাদের প্রত্যেকেরই লক্ষ্য রাখা অতি জরুরী।
জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্টানগুলোর ইতিবাচক ভূমিকা জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত
রাজনীতিকে জোরালো অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে আশা করা যায়। সারা বিশ্বেই প্রায় রাজনীতির রমরমা সময়
এখন। ইউরোপে এ অবস্থা বেশ লক্ষনীয়। সবশেষ গ্রীসেও সম্প্রতি অনুষ্টিত নির্বাচনে ‘গ্রীণ পার্টি’ পার্লামেন্টে
আসন পেয়ে নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টিকে ক্ষমতায় আনতে অবদান রেখেছে। ইতিমধ্যেই দেশের প্রধানমন্ত্রী
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। জার্মানি, ফ্রান্স, নরওয়ে, অষ্ট্রিয়া, হল্যান্ড,
আইসল্যান্ড সর্বত্রই সবুজ অর্থনীতিকে সামনে রেখে রাজনীতি করা দলগুলো ভালো অবস্থানে, আফ্রিকার বিভিন্ন
দেশেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও পরিবেশবান্ধব সরকার, উন্নয়ন সংস্থা ও এনজিও এক সঙ্গে কাজ করছে।
আমেরিকার আসন্ন নির্বাচনে জলবায়ু পরিবর্তনকে একটি প্রধান ইসু হিসেবে ডেমোক্রেটিক দলের সব
প্রার্থীই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে স্থান পেয়েছে। ডেমোক্রেটিক দলের কংগ্রেস সদস্য আলেক্সান্দিয়া ওয়াসিও কর্টেজ
‘গ্রিন নিউ ডিল’ নিয়ে রাজনীতির মাঠে নামার পর থেকেই অনেকেই বিষয়টিকে সবিশেষ প্রাধান্য দিচ্ছেন। বার্ণি
স্যান্ডার্সসহ সব প্রেসিডেন্ট পদ প্রার্থীরাই জলবায়ু পরিবর্তনকে নির্বাচনী এজেন্ডায় অন্তর্ভূক্ত করেছিলেন। সাম্প্রতিক
এক জরিপে দেখা গিয়েছে, মোট ভোটারদের ৮১শতাংশ (রিপাবলিকান কট্রর পন্থীদের ৫৭ শতাংশসহ) জলবায়ু
পরিবর্তনকে ঘিরে হওয়া আন্দোলনকে সমর্থন করেন। তবে সাবেক প্রেসডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই জলবায়ু
পরিবর্তন ধারার কট্টর বিরোধী। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে গত ২২ ও ২৩ এপ্রিল ২০২৩ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো
বাইডেন জলবায়ু বিষয়ক শীর্ষক সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন। এতে বিশ্বের ৪০টিরও বেশী দেশ উক্ত
সম্মেলনে অংশ নিয়েছিল। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঢাকায় এসে আমন্ত্রণ জানিয়ে ছিলেন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরিকে। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান,
যুক্তরাষ্ট্র প্যারিস চুক্তিতে ফিরে আসায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বৈশ্বিক উদ্যোগে নতুন করে গতি সঞ্চারিত
হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে প্যারিস সম্মেলনে বড় অর্থনীতির দেশগুলো জলবায়ু অর্থায়নের জন্য
১০০বিলিয়ন ডলারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়েছে খুবই সামান্য। বাংলাদেশের
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমত হয়েছে আমরাও আশা করছি প্যারিস সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ফিরে আসা নড়বড়ে বৈশ্বিক
উদ্যোগকে জোরদার করবে।
তবে পরিবেশ দূষণের মাত্রা প্রকট হওয়ায় মানব সভ্যতা আজ হুমকির সম্মুখীন। এ থেকে মুক্তির উপায়
নিয়ে চলছে নানা গবেষণা। তারই প্রেক্ষিতে বৈশ্বিক অঙ্গনে তরুণ ও যুবশক্তি সুইডেনের ১৬বছর বয়সী গ্রেটা
থানবার্ড যে আন্দোলন শুরু করেছিলেন গত কয়েক বছর আগে, তা আজ বিস্তৃত ও বেগবান হয়ে এক আপনহীন
আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তারুণ্যের শক্তি আজ অপ্রতিরোধ্য। এর ঢেউ বিশ্বের সব
দেশেই কমবেশি পড়েছে। বাংলাদেশেও সম্প্রতি গ্রিন পার্টির ব্যানারে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে
যৌথভাবে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন)। বেন প্রতিষ্টাতা
সভাপতি ড. নজরুল ইসলাম, বাপা সভাপতি সুলতানা কামাল ও সাধারণ সম্পাদক জামিল নজরুল গত দু’এক
বছর আগে ঢাকায় অনুষ্টিত এক সমাবেশে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির পঙ্কজ
ভট্টাচার্য, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবি অ্যাসোসিয়েশনের (বেলা) প্রধান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রমুখ এ
অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করে বক্তারা গ্রিন
পার্টি গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন সেখানে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গ্রিন
পার্টির আবির্ভাব ও সাফল্যের ইতিহাস তুলে ধরে ড. নজরুল ইসলাম বাংলাদেশেও এর উজ্জ্বল সম্ভাবনার ব্যাপারে
আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তাই এখনই প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা। তাছাড়াও এই শহর, এই দেশ ও বিশ্বকে বাঁচাতে হবে।
সম্মিলিতভাবে মানুষবান্ধব কর্মসূচি গ্রহণের পাশাপাশি মানুষের মাঝে গণসচেতনা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।
বায়ুদূষণ শুধু ঝুঁকি নয়, এটি অর্থনৈতিক এবং ইকো সিস্টেমের ঝুঁকির কারণ। বায়ুদূষণ শুধু স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ
নয়, পরিবেশ ও অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব ফেলছে, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সচেতনতা একে অন্যের পরিপূরক।
আমাদের জনস্বাস্থ্যে পরিবেশের প্রভাব এক তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। টেকসই উন্নয়নের জন্য
আমাদের অবশ্যই পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ, জনস্বাস্থ্য ও
পরিবেশ রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে বিশ্বব্যাপী।
পরিষেশে বলতে হয়, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়টির গুরুত্ব যেন ক্ষমতায় বা ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়ার
রাজনীতে পর্যবসিত না হয়।
এ ব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। চাপ সৃষ্টিকারী দল হিসেবে গ্রিন পার্টির যথার্থতা রয়েছে। কিন্তু
রাজনীতির লেবাসে যেন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার আন্দোলন গৌণ না হয়ে যায়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন :

সর্বশেষ সংবাদ

ukbanglaonline.com