ইউকে শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২
হেডলাইন

সুনামগঞ্জে বন্যায় ৪৫ হাজার ঘরবাড়ির বিধ্বস্ত,অনুদান ৫ কোটি টাকা

সুনামগঞ্জে বন্যায় ৪৫ হাজার ঘরবাড়ির বিধ্বস্ত,অনুদান ৫ কোটি টাকা

ইউকে বাংলা অনলাইন ডেস্ক : ‘বন্যায় আমার সব নিয়া গেছে। আমার বাড়ি নিয়া গেছে। এখন আমি কিভাবে চলব, কোথায় থাকব।’ বন্যার পানির দিকে তাকিয়ে এভাবেই আহাজারি করছিলেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মদনপুর গ্রামের আতাফুন নেছা।

শুধু আতাফুন নেছাই না, বানের স্রোতে ঘরবাড়ি হারানো মানুষদের কান্নার শব্দ এখন পুরো সুনামগঞ্জ জুড়ে। এবারের বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েন জেলার ১৩ লাখেরও বেশি মানুষ। জীবন বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রাণ নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেন লক্ষাধিক মানুষ। বন্যায় জেলার প্রায় ৪৫ হাজার ২৮৮টি ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে।

শনিবার (০২ জুলাই) সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এখনো বিভিন্ন উপজেলায় মানুষের বাড়িঘর, রাস্তাঘাটে বন্যার পানি আছে। পানি কিছুটা কমলেও অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়িঘরে ফিরতে পারছেন না। অনেকের বাড়িঘর বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবার অনেকের ঘরবাড়ি বানের স্রোতে ভেসে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরে কোথায় গিয়ে থাকবেন সেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

এদিকে সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে চার উপজেলার সড়ক যোগাযোগ এখনও স্বাভাবিক হয়নি। গত সোমবার থেকে পানি আবার বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর উপজেলার কিছু এলাকা প্লাবিত হয়। শুক্রবার রাতে সুনামগঞ্জে কোনো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানি আবার কমছে। বর্তমানে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মদনপুর গ্রামের আতাফুন নেছা বলেন, আমার ছেলে, স্বামী কেউ নেই গো, আমার ঘর বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এই বৃদ্ধ বয়সে আমি কোথায় যাবো, আমার যে এই জগতে কেউ নাই।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মদনপুর গ্রামের বাসিন্দা হেলেনা বেগম বলেন, বন্যায় আমাদের ঘরবাড়ি তছনছ করে দিয়েছে এখন ছেলে মেয়ে নিয়ে রাস্তায় আছি। কী করব বুঝতে পারছি না।

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা আবু বকর বলেন, অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাই। বন্যা এসে আমার ঘরের সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এখন ছেলে মেয়ে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে রাস্তায় দিন কাটাচ্ছি। নতুন করে যে ঘর নির্মাণ করবো সেই ক্ষমতা আমার নেই।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর জানান, দ্বিতীয় দফা বন্যায় সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলার ৮৮টি ইউনিয়নের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৪৫ হাজার ২৮৮টি ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। সেই তালিকা আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুনামগঞ্জের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ হাজার পরিবারকে ৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন।সূত্র:জাগোনিউজ

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন :

সর্বশেষ সংবাদ

ukbanglaonline.com