ইউকে শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১
হেডলাইন

অন্যদের থেকে একটু ভিন্ন সিলেটের রাজা

অন্যদের থেকে একটু ভিন্ন সিলেটের রাজা

ইউকে বাংলা অনলাইন ডেস্ক : রেজাউর রহমান রাজার টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়া অনেকটা আচমকাই বলা যায়। তাসকিন আহমেদ চোটে না পড়লে হয়ত দলের অনুশীলনে সহায়তাকারী হিসেবেই থাকতেন তিনি। তবে তাসকিনের চোটেও তার দলে আসায় কিছুটা বিস্ময় থাকছে।

তিনি যে বিবেচনায় এসেছেন সৈয়দ খালেদ আহমেদকে টপকে। নিশ্চিতভাবে তার মধ্যে বিশেষ কিছু দেখেই তাকে বেছে নেওয়া। ২২ বছরের তরুণ ডানহাতি পেসার জানালেন, তার ক্ষমতা অন্যদের থেকে একটু ভিন্ন।

বেশ সহজ সাবলীল অ্যাকশন। খালি চোখে দেখে মনে হয় বলে খুব বেশি গতি নেই। কিন্তু লেন্থ থেকে হুট করে লাফায়, কিছু বল স্কিড করে। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুশীলনের শুরুতেই বল হাতে পান সিলেটের ছেলে রাজা।

প্রথমদিন খুব আহামরি কিছু করেননি, তবে তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে আসার পথ বেশ চমক জাগানিয়া। সিলেটের ওসমানীনগরে বছর তিন-চার আগেও তিনি টেপ টেনিসে ‘খ্যাপ’ ক্রিকেট খেলতেন। স্থানীয় পর্যায়ে ক্রিকেট বলে একটি টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়েই বদলে যায় তার গতিপথ।

টেস্ট দলে ডাক পাওয়ার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে স্মরণ করলেন তার উঠে আসার কথা, ‘আসলে টেপ টেনিস খেলা থেকে অনুপ্রাণিত হওয়া। এলাকায় টেপ টেনিস খেলার পর একটা ক্রিকেট বলের টুর্নামেন্ট হয়েছিল। আমি সেখানে খেলতে যাই। তখন বড় ভাইরা বোলিং দেখে বলছিলেন, “তোর বোলিং ভালো হচ্ছে, তুই চাইলে স্টেডিয়ামে গিয়ে ক্রিকেট প্র্যাকটিস করতে পারিস।” তো আমি বড় ভাইদের কথা শুনে অনুশীলনে গেলাম। প্র্যাকটিসে গিয়ে আমার মনে হইলো যে, ইনশাআল্লাহ্‌ আমি পারবো। তো এভাবেই আসলে আমার ক্রিকেটে আসা।’

এবার জাতীয় ক্রিকেট লিগে তিন ম্যাচ খেলে ১২ উইকেট নিয়েছেন রাজা। খুলনার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই নিয়েছিলেন ৮ উইকেট। ২০১৯ সালে প্রথম শ্রেণীতে অভিষেক হওয়ার পর খেলেছেন ১০ ম্যাচ। তাতে ২৪.২৭ গড়ে ৩৩ উইকেট তার।

জানালেন নিজের সামর্থ্যের জায়গা হচ্ছে ক্রমাগত বল করে যাওয়া। এবং টানা বল করলেও শক্তিটা ধরে রাখা, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম শ্রেণিতে ভালো করেছি। চারদিনের খেলায় কয়েকটা স্পেলে বোলিং করতে পারি। আমার স্ট্রেন্থটা ধরে রাখতে পারি, এটাই আমার শক্তি।’

দিনের খেলা যত বাড়তে থাকে, বেশিরভাগ পেসারই গতি হারান। রাজা জানালেন, তার শক্তির ভিন্নতা হচ্ছে এখানেই। গতি কমার চেয়ে নাকি দিনের শেষে গতি আরও বেড়ে যায়, ‘আমার নিজের যেটা মনে হয় যে, এক জায়গায় টানা বল করতে পারি। বলে কিছু মুভমেন্ট করাতে পারি। এক ছন্দে টানা বল করতে পারি। দিনের শুরুতে যেই পেসে বোলিং করি, দিনের শেষে আলহামদুলিল্লাহ তার চেয়ে একটু বেশি পেসে বল করতে পারি।’

লাল বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ মানেই সিলেটের যোগসূত্র। টেস্ট দলে তাসকিন বাদ দিলে বাকি সবাই সিলেটের। আবু জায়েদ রাহি, ইবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদদের কাছ থেকে প্রেরণা নেওয়ার কথা জানালেন রাজা, ‘চ্যালেঞ্জ নেওয়া পছন্দ করি। আমাদের বড় ভাইদের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের সিলেটে যেমন রাহি ভাই, এবাদত ভাই, খালেদ ভাইদের কাছ থেকে মোটিভেশন পাচ্ছি। এসব থেকেই পেস বোলার হওয়ার একটা উৎসাহ জেগেছে।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন :

সর্বশেষ সংবাদ

ukbanglaonline.com