ইউকে শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১
হেডলাইন

ছিলেন বাসচালকের সহকারী, এখন তাঁর ঢাকায় বাড়ি-গাড়ি

ছিলেন বাসচালকের সহকারী, এখন তাঁর ঢাকায় বাড়ি-গাড়ি

ইউকে বাংলা অনলাইন ডেস্ক : নিজের পরিচয় দেন মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান। পাশাপাশি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড গার্ড সার্ভিস লিমিটেডসহ চারটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও পরিচয় দেন তিনি। গুলশানের শুটিং ক্লাবের আজীবন সদস্য বলেও দাবি তাঁর। ব্যবহার করেন দুটি বিলাসবহুল গাড়ি। নিজের নিরাপত্তার জন্য কোম’রে সব সময় একটি বিদেশি পি’স্তল রাখেন। ঘরে সাজিয়ে রেখেছেন তিনটি বিদেশি পি’স্তল, একটি শটগান, একটি এয়ারগান ও একটি রাইফেল।

প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতেই শাহীরুল ইস’লাম সিকদার (৪৮) নামের এই ব্যক্তির এত আয়োজন। নিজেকে এভাবে জাহির করে তিনি চাকরির প্রলো’ভন, প্লট ও ফ্ল্যাট বিক্রির নাম করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে প্রায় ৫০ কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। অথচ তিনি একসময় বাসচালকের সহকারী ছিলেন। পরে তিনি নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহ করে, এমন একটি প্রতিষ্ঠানের দালালি করেন। এই দালালি করতে গিয়েই তিনি প্রতারণার কৌশল শেখেন। তারপর ধীরে ধীরে তিনি বড় প্রতারক হয়ে ওঠেন।

শাহীরুল হককে গ্রে’প্তারের পর রেব-৪-এর অধিনায়ক অ’তিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মোজাম্মেল হক এসব তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী থেকে তাঁকে গ্রে’প্তার করা হয়। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে রেবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে রেব-৪-এর অধিনায়ক অ’তিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মোজাম্মেল হক বলেন, শাহীরুল প্রতারণাকে শিল্পে রূপ দিয়েছেন। তিনি যেসব প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সেগুলোর কোনোটিরই অস্তিত্ব নেই। তবে তাঁর বাসা থেকে উ’দ্ধার হওয়া তিনটি বিদেশি পি’স্তল, একটি শটগান, একটি এয়ারগান ও একটি রাইফেল উ’দ্ধার করা হয়েছে। এগুলো সবই আসল। তিনি বলেছেন, এগুলো তাঁর বৈধ অ’স্ত্র। তবে এ-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি। এ বিষয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

শাহীরুল ইস’লামের প্রতারণার কৌশল স’ম্পর্কে রেব কর্মক’র্তা মোজাম্মেল বলেন, তিনি কখনো কখনো সরকারি কর্মক’র্তা হিসেবেও নিজের পরিচয় দিতেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ৫-১০ লাখ টাকা নিতেন। টাকা ফেরত চাইলে হু’মকি দেওয়া হতো। এমনকি অ’স্ত্র দেখিয়েও ভ’য় দেখানো হতো। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিতে চট’কদার বিজ্ঞাপন দিতেন তিনি। এই ফাঁদে পা দিলে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১৫-২৫ হাজার টাকা করে জামানত নিতেন। এরপর তিনি আর চাকরি দিতেন না।

নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপন করতে মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দেওয়া শুরু করেন শাহীরুল ইস’লাম। ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে সেগুলো প্রদর্শন করতেন। এমনকি বিভিন্ন সরকারি কর্মক’র্তার নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করতেন। দেশের বিভিন্ন এলাকার বেকারদের নিরাপত্তাকর্মী, সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক, কম্পিউটার অ’পারেটর, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন।

শাহীরুল ইস’লামের উত্থান স’ম্পর্কে রেব-৪-এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, শাহীরুল উচ্চ’মাধ্যমিক পাস। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি শৌখিন পরিবহনে চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০৩ সালে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহের কাজ শুরু করেন। তারপর ধীরে ধীরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সার্ভিস নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে শুরু করেন প্রতারণা। তিনি হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। পরে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেন। ঢাকায় তাঁর দুটি বাড়ি, দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। দুটি বিলাসবহুল গাড়িও ব্যবহার করেন তিনি।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন :

সর্বশেষ সংবাদ

ukbanglaonline.com