ইউকে সোমবার, ২ আগস্ট ২০২১
হেডলাইন

‘হাতকরা ছাড়া কুরবানির ঈদ চলেনি?’

‘হাতকরা ছাড়া কুরবানির ঈদ চলেনি?’

‘হাতকরা ছাড়া কুরবানির ঈদ চলেনি?’

সিলেট সংবাদদাতা : রোববার বেলা আনুমানিক ১ টা। সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় খুব যত্ন করে সাতকরা সাজিয়ে রাখছেন মরম আলী। সড়ক বিভাজকের গ্রিলে সাতকরা দিয়ে যেন ফুল তোলার চেষ্টা। জিজ্ঞাস করলাম বিক্রি কেমন। মরম আলীর সোজাসাপটা উত্তর, ‘হাতকরা ছাড়া কুরবানির ঈদ চলেনি?। গরুর মাংস আর হাতকরা ইটাতো আমরার সিলেটির ঐতিহ্য।’ সহজেই অনুমেয় বিক্রি ভালই চলছে।

তবে সিলেটে কুরবানির ঈদে সাতকরার চাহিদা নতুন নয়। সিলেটবাসীর ওইতিহ্যের সাথে মিশে থাকা এ সাতকরার চাহিদা সব সময়ই থাকে। কিন্তু কুরবানির ঈদ এলে চাহিদা আরও কয়েকগুন বেড়ে যায়। সম্প্রতি সিলেট নগরীর অলিগলিতেও দেখা গেছে সাতকরা বিক্রির ধুম।

সিলেটের সবজীর পাইকারী বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রউফ বলেন, ঈদ উপলক্ষে সিলেটে সাতকরার চাহিদা কয়েকগুন বেড়ে যায়। পুরো বছর জুড়েই সাতকরার চাহিদা থাকলেও ঈদেই বেশি বিক্রি হয়। এবার সাতকরার আকার ভেদে সর্বনিম্ন ৩০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮০ টাকা পর্যন্ত হালি বিক্রি হচ্ছে।

অবশ্য কাঁচা সাতকরার চাহিদা বেশি থাকলেও সিলেটের অধিকাংশ মানুষের ঘরেই কাঁচা সাতকরা কেটে শুকিয়ে রাখা হয় বলে জানালেন ক্রেতা নাসরিন নাহার। জিন্দাবাজার এলাকার ফুটপাত থেকে তিনি চারটি সাতকরা কিনলেন ১১০ টাকা দিয়ে। কথা হয় তাঁর সাথে। বলেন, বর্ষার এ মৌসুমে আর কিছুদিন গেলে সাতকরার দাম আরও কমবে। এখন কুরবানির মাংস দিয়ে খাওয়ার জন্য কিনেছি। দাম কমলে সারা বছর খাওয়ার জন্য সাতকরা কেটে শুকিয়ে রাখব। ডাল, আলুসহ বিভিন্ন সবজি রান্না করার সময় দেওয়া যায়। মাছ দিয়েও রান্না করে খাওয়া যায়।

রন্দন শিল্পী সেলিনা চৌধুরী সাতকরার রান্না পদ্ধতি জানিয়ে বলেন, গরুর মাংস এক কেজিতে ৭ থেকে ৮ টুকরো, চাইলে আরও সামান্য বেশি সাতকরা দিয়ে মাংসের সাথে সামঞ্জস্য সকল মসলা দিয়ে সহজেই রান্না করা যায় সাতকরা।

তবে সিলেট অঞ্চলে খাবার হিসেবে সাতকরার ঐতিহ্য বেশ পুরনো হলেও এখনো বাণিজ্যিক ভাবে চাষে আসতে পারেনি এ অঞ্চলের মানুষ। কিন্তু সাতকরা এখন সিলেট অঞ্চল ছাড়িয়ে দেশের অন্যান্য জায়গার মানুষের কাছেও কিছুটা প্রিয় হয়ে উঠেছে। আর প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলের মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করায় সাতকরার চাহিদা বিদেশেও বেড়েছে।

অবশ্য সাতকরার নামের সাথে মিল রেখে একটি জায়গারই নামকরণ হয়েছে সিলেট অঞ্চলে। মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার একটি গ্রামের নাম ‘সাতকরাকান্দি’। সিলেট অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি সাতকরা হয় এ এলাকায়।

এছাড়াও সিলেটের জৈন্তাপুর, বিয়ানীবাজার এবং শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় মানুষ নিজেদের খাদ্যের প্রয়োজনে কিছু সাতকরা চাষ করেন এবং উচ্ছিষ্টগুলো বিক্রি করেন বলে জানালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক দিলিপ কুমার অধিকারী। তবে বাণিজ্যিক ভাবে চাষ করলে সাতকরা থেকে ব্যাপক সফলতা পাওয়া সম্ভব বলে জানান তিনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন :

সর্বশেষ সংবাদ

ukbanglaonline.com