ইউকে বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১
হেডলাইন

এক বছর ধরে গৃহকর্মীকে ধর্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র কারাগারে

 

ইউকে বাংলা অনলাইন ডেস্ক :  এক বছর ধরে নিজ বাড়িতে গৃহকর্মীকে ধর্ষণ করে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আমজাদ মাহমুদ নিলয়কে (২১) তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি। তবে তার বাবা আব্দুল মাজেদ এখনো পলাতক আছেন।

জানা গেছে, নিলয়কে চাঁদপুর আনার পর আজ বুধবার আদালতে তোলে পুলিশ। বিচারক তাকে নামঞ্জুরকৃত জামিনে জেল হাজতে পাঠান।

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশিদ বলেন, আমজাদ মাহমুদ নিলয় ভোলায় তার এক বন্ধুর বাড়িতে আত্মগোপনে ছিল। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) কবির হোসেন আত্মগোপনে থাকা নিলয়কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। তবে এখনো পলাতক রয়েছেন আরেক আসামি নিলয়ের বাবা আব্দুল মাজেদ। তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানায়, চাঁদপুর শহরের ওয়ারলেস এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এ কর্মরত আব্দুল মাজেদ ও শাহনাজ বেগম দম্পতি। তাদের বাসায় ৪ বছর ধরে কাজ করে আসছিলেন ভিকটিম ওই তরুণী। তাকে কোনও টাকা পয়সা দেওয়া হতো না। উপরন্তু তাদের বড় ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আমজাদ মাহমুদ নিলয় (২১) এক বছর ধরে ধর্ষণ করে আসছিল তাকে।

করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় চাঁদপুরের বাসাতেই ছিল অভিযুক্ত নিলয়। বাবা-মা কর্মস্থলে গেলে সে গৃহকর্মীকে একা পেয়ে ধরে ধর্ষণ করতো। বিষয়টি নিলয়ের বাবা-মাকে জানালেও প্রতিকার পায়নি ওই গৃহকর্মী। উল্টো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনসহ ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে চুপ থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৪ এপ্রিল মাজেদ ও শাহনাজ বেগম দম্পতি অফিসে গেলে নিলয় তরুণীকে ধর্ষণ করে। তরুণী এদিনও আব্দুল মাজেদ ও শাহনাজ বেগমের কাছে প্রতিকার চান। তখন মা-ছেলে মিলে তাকে নির্যাতন করে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ৩০ এপ্রিল বাসা থেকে পালিয়ে সড়কে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তরুণী। তখন আশপাশের মানুষ দেখে ফেলায় এ যাত্রায় রক্ষা পান।

পরে বিষয়টি চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদের নজরে পড়ে। তিনি তরুণীকে উদ্ধার করে সদর মডেল থানাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

ওসি আব্দুর রশিদ জানান, ওই তরুণীর কাছ থেকে বিস্তারিত শুনেছি। পরে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই পরিবারের তিন জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেওয়া হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ওই বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় নিলয়ের মা শাহনাজ বেগমকে আটক করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেই। কিন্তু পুলিশ যাওয়ার আগেই অভিযুক্ত যুবক এবং তার বাবা পালিয়ে যায়। তবে তার মাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ২২ ধারায় ভিকটিম ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছে। ঘটনা সত্য। বাড়ির আশপাশের লোকজনও আমাদের জানিয়েছে মেয়েটিকে মাঝে মধ্যেই মারধর করা হতো। বিষয়টি বাড়ির মালিককেও বিভিন্ন সময় জানানো হয়।

পুলিশ সুপার জানান, ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই সবকিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে। আমরা মেয়েটিকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠাবো। তার অভিভাবক তাকে নিতে চাইলে নিবে। না হলে আমরা একটা ব্যবস্থা করবো।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন :

সর্বশেষ সংবাদ

ukbanglaonline.com