ইউকে মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১
হেডলাইন

গৃহকর্মীর সঙ্গে আচরণ কেমন হবে

ইউকে বাংলা অনলাইন ডেস্ক :  আপনি কী একজন শুদ্ধ মানুষ হতে চান? তাহলে পথ চলার ক্ষেত্রে কিছু শুদ্ধাচার মেনে চলুন। আর তা যদি আপনি পারেন, তবে দেখবেন চমৎকার এক জগতে প্রবেশ করেছেন। শুদ্ধ হওয়া বিষয়টি এমন নয় যে এটা আপনা আপনি হয়ে যায়। শুদ্ধ হওয়ার জন্যে আপনাকে এটা চর্চা করতে হবে। এটা অনেকটা ভালো সঙ্গীত শিল্পী বা ক্রীড়াবিদ হয়ে উঠার মতোই। সাফল্যের জন্যে তাদেরকে যেমন চর্চা করতে হয়, শুদ্ধ মানুষ হওয়ার ব্যাাপরেও আপনাকে সেটা করতে হবে।

আজ আমরা আলোচনা করবো গৃহকর্মী/ অধীনস্থদের সঙ্গে ব্যবহার কেমন হবে সে সম্পর্কে-
– ভালোভাবে খোঁজখবর না নিয়ে কখনো গৃহকর্মী নিয়োগ করবেন না।
– গৃহকর্মী/ অধীনস্থের ওপর অতিরিক্ত কাজের বোঝা চাপাবেন না। আপনার সময়, সুযোগ ও সাধ্যমতো তার কাজে সহযোগিতা করুন।
– তার কাজের তালিকায় প্রাধান্য ঠিক করে দিন। আপনার সাধ্যমতো গৃহকর্মীদের উত্তম পোশাক প্রদান করুন।
– কোথাও সাথে করে নিয়ে গেলে পরিচয় করিয়ে দিতে ‘কাজের মেয়ে/ ছেলে, কাজের বুয়া/ বেটি’ না বলে বলুন-গৃহকর্মী বা গৃহ-সহকারী।
– অন্য বাসার গৃহকর্মীকে প্ররোচিত করে নিজের বাসায় নিয়োগ দেয়া থেকে বিরত থাকুন।
– কোনো বাসায় বেড়াতে গিয়ে সে বাসার গৃহকর্মীকে বখশিশ/ সম্মানী দিতে চাইলে মেজবানের মাধ্যমে/ সামনে দিন।
– বিশ্বস্ত হলেও সবক্ষেত্রে তার ওপর নির্ভরশীল হবেন না। আলমারির চাবি বা মূল্যবান জিনিস তার কাছে গচ্ছিত রাখবেন না। তার সামনে টাকাপয়সা গুনবেন না, স্বর্ণালঙ্কার নাড়াচাড়া করবেন না। এগুলো তার মনে বঞ্চনার বেদনা বা লোভ সৃষ্টি করতে পারে।
– ধর্মীয় উৎসবে, সামাজিক পার্বণে, পারিবারিক অনুষ্ঠানে নিজেরা কিছু কিনলে তাকেও সাধ্যমতো উপহার দিন।
– অসুস্থ হলে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। তাকে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিতে দিন।
– আপনি যা খান তাদেরকেও তা খেতে দিন। খণ্ডকালীন (ছুটা) গৃহকর্মীকেও নাশতা/ খাবার দিন। উচ্ছিষ্ট ও বাসি খাবার দেবেন না। তাদেরকে কোনো খাবার খেতে দেয়ার আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন-আপনি নিজে এ খাবারটি খেতেন কিনা।
– ঘুমানোর জন্যে পরিষ্কার মশারি, লেপ/ কম্বল/ কাঁথা, চাদর, স্বাস্থ্যসম্মত ফ্লোর ম্যাট্রেস দিন। রাতে অন্তত ছয় ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ দিন।
– অক্ষরজ্ঞান না থাকলে তাকে অক্ষরজ্ঞান দান করুন।
– সম্বোধনে ‘তুই’ ব্যবহার করা থেকে পারতপক্ষে বিরত থাকুন। আপনার চেয়ে বয়সে বড় মনে হলে নামের সাথে চাচা/ খালা/ ভাই/ আপা সম্বোধন করুন।
– নামের বিকৃত উচ্চারণে তাকে ডাকবেন না। আত্মীয়-পরিজনদের নামের সাথে তার নাম মিলে গেলেও নাম বদলে দেবেন না।
– কখনো বাড়তি কাজ করাতে হলে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দিন।
– কখনোই শারীরিকভাবে প্রহার করবেন না, গালিগালাজ করবেন না। থাকা-খাওয়ায় কষ্ট দেবেন না। ভুল করলে তাকে বুঝিয়ে বলে শোধরানোর চেষ্টা করুন, তা না হলে তাকে অব্যাহতি দিন।
– সময়মতো কাজে না এলে বা অনুপস্থিত থাকলে রাগারাগি/ দুর্ব্যবহার করবেন না। যুক্তিসঙ্গত কারণ না থাকলে বা এটা অভ্যাসে পরিণত হলে সেদিনের বেতন কেটে রাখার নিয়ম করতে পারেন।
– অসাবধানে দামি কিছু ভেঙে ফেললে বিষয়টি সহজভাবে নেয়ার চেষ্টা করুন।
– গৃহকর্মীদের কাছ থেকে পরিবারের শিশুরা বাজে ভাষা ও গালিগালাজ শিখছে কিনা খেয়াল রাখুন।
– চুরি বা মিথ্যা বলার অভ্যাস প্রমাণিত হলে দ্রুত তাকে বিদায় দিন।
– গৃহকর্মীকে সাথে নিয়ে কোনো বাসায় বেড়াতে গেলে তার গতিবিধির ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
– আপনার বাসার বা এপার্টমেন্টের দারোয়ান/ ড্রাইভারের সাথে গৃহকর্মীর কথোপকথন ও যোগাযোগের ব্যাপারে সচেতন থাকুন।
– কিশোরী-তরুণী গৃহকর্মীকে কখনো দোকানে/ বাজারে পাঠাবেন না। কখনো বাসায় একা রেখে যাবেন না।
– গৃহকর্মীর সাথে পরিবারের প্রত্যেকের আলাপচারিতা, ব্যবহার ও মেলামেশার ব্যাপারে সচেতন হোন।
– পরিবারের কেউ গৃহকর্মীর সাথে অন্যায় আচরণ করলে পরিবারের সদস্যের পক্ষ অবলম্বন করবেন না। তার প্রতি সুবিচার করুন।
– হঠাৎ করেই কাউকে চাকরিচ্যুত করবেন না। নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে অন্তত একমাস আগে তাকে জানিয়ে দিন অথবা একমাসের বাড়তি বেতন দিয়ে অব্যাহতি দিন।
– নিয়োগদানের আগেই চাকরির শর্তসমূহ (বেতন, কাজের ধরন ইত্যাদি) নিয়ে পরিষ্কারভাবে কথা বলুন। উৎসবে বোনাসের ব্যবস্থা রাখুন।
– কাজের আগেই/ মাস না ফুরোলে পুরো মজুরি অগ্রিম প্রদান করবেন না। বেতন আটকেও রাখবেন না। ঘাম শুকানোর আগেই মজুরি পরিশোধ করা ধর্মের নির্দেশ। তার টাকার প্রয়োজন হলে কাজের অনুপাতে প্রাপ্য মজুরি পরিশোধ করুন।
– বাসায় মেহমান আসার আগেই তাকে কিছু খেতে দিন যাতে মেহমানদের সেবাযত্ন করার প্রয়োজনীয় শক্তিটুকু সে পায়।
– মেহমানের সঙ্গে আসা ড্রাইভার, গৃহকর্মী বা কর্মচারীকেও সমমানের খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করুন।
– নিজেরা সোফায়/ বিছানায় বসে তাকে দাঁড় করিয়ে রাখবেন না বা মাটিতে বসতে বলবেন না। তাদেরও বসার ব্যবস্থা রাখুন।
– কোনোকিছু হারিয়ে গেলে প্রথমেই তাকে সন্দেহ করবেন না। এ নিয়ে তাকে কিছু জিজ্ঞেসও করবেন না।
– চাকরিচ্যুত কাউকে পুনরায় নিয়োগ না করাই ভালো।
– ছুটি চাইলে শুরুতেই ‘না’ বলবেন না। পরিস্থিতি ও তার প্রয়োজনকে বিবেচনায় আনুন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন :

সর্বশেষ সংবাদ

ukbanglaonline.com